বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে জিপি
এআই, নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবায় কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও চলমান প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। এই প্রান্তিকে মোট ৪,২২০ কোটি টাকারাজস্ব আয় করেছে গ্রাহক সংখ্যায় শীর্ষ মোবাইল অপারেটরটি। এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বেশি।
অপরতিকে একই সময়ে নতুন ২৩ লাখ গ্রাহক যুক্ত হয়ে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫৩ লাখে। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ৫৮.৩ শতাংশ অথবা ৪ কোটি ৯৭ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন।
গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান( টাকা) দ্বিতীয় প্রান্তিক ২০২৪ রাজস্ব (কোটি) ৪২২০ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি (ইয়ার অন ইয়ার) ৫.৬% কর পরবর্তী মুনাফা (কোটি) ৮৬০ এনপিএটি মার্জিন ২০.৪% ইবিআইটিডিএ মার্জিন ৬০.৪% শেয়ার প্রতি আয় ৬.৩৮ মূলধন ব্যয় (লাইসেন্স, ইজারা ও এআরও ব্যতীত) (কোটি) ৪৬০
গ্রামীণফোনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতি, ক্রমাগত জ্বালানি সম্পদের দামের সমন্বয়, ভর্তুকি হ্রাস, সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ গত বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সত্ত্বেও আমরা প্রবৃদ্ধির কৌশলে মনোযোগী ছিলাম এবং টপলাইন ও ইবিআইটিডিএ-এর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে ব্যবসায় স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছি। আমাদের মাইজিপি অ্যাপটির বর্তমান সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটি, যা অ্যাপটিকে দেশের বৃহত্তম সেল্ফ-সার্ভিস অ্যাপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।“
তিনি আরও বলেন, ”এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আমরা বিভিন্ন স্মার্ট ও অভিযোজিত কৌশল অবলম্বন করেছি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এআই-চালিত ডায়নামিক নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন সিস্টেম স্থাপন, যা রিয়েল টাইম মুভমেন্টের উপর ভিত্তি করে নির্বিঘ্ন সংযোগ প্রদান করছে। গ্রামীণফোনে আমরা গ্রাহকদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং টেকসই ভবিষ্যত গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা কৌশলগতভাবে এমন সব প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব করছি যারা আমাদের মূল্যবোধ এবং পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন (ইএসজি) সম্পর্কিত উদ্যোগগুলোকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে। শীর্ষ টেলিকম অপারেটর হিসেবে আমরা আমাদের উপর অর্পিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্বের প্রতি সংবেদনশীল।
গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো রিসব্যাক বলেন, “আমরা বছরের প্রথমার্ধ শেষ করলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, প্রথম প্রান্তিক ভালোভাবে পার করার পর, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও সকল ক্ষেত্রে ও বিভাগগুলোতে আমরা আমাদের অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছি। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এআরপিইউ ও গ্রাহক উভয় দিকেই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ইতিবাচক। দ্বিতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাবস্ক্রিপশন ও ট্র্যাফিক রেভিনিউ ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিলো ৫.২ শতাংশ। দক্ষতা ও অটোমেশনের উপর ভিত্তি করে আমরা খরচের চাপ কমিয়েছি এবং ৬০.৪% এর একটি শক্তিশালী ইবিআইটিডিএ মার্জিন অর্জনে সক্ষম হয়েছি। এই নিয়ে টানা তেরো প্রান্তিকে লক্ষণীয় আর্থিক অগ্রগতি এবং ইবিআইটিডিএ-এর ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে গ্রামীণফোন। আমি বিশেষভাবে আনন্দিত যে, ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ব্যালেন্স শীটের ফলশ্রুতিতে বোর্ড এই প্রান্তিকের জন্য শেয়ার প্রতি ১৬ টাকার অন্তর্বর্তী লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে।“







